মোস্তফা কামাল সুমন: উত্তর আধুনিক যুগে পাটের পূর্ণ যৌবন না থাকলেও গুরুত্ব কমেনি। পাট পণ্যের বহুমুখী ব্যবহারে দিন দিন পাটের কদর বাড়ছে। আর এই কদরের আঁচ পড়েছে বাজারে। পাট তার হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করার চেষ্টা করে চলছে। চলতি বছরে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের কৃষকেরা পাটের ভালো দাম পাওয়ায় তাদের মুখে হাসি ফুটেছে। সোনালী আঁশ পাট উপজেলার কৃষকদের কাছে এখন সোনার মতই দামী কৃষি পণ্যে পরিনত হয়েছে।
প্রতি বছর উপজেলায় পাটের আবাদ বাড়ছে। চলতি বছরে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৮৫ হেক্টর জমিতে বেশি পাট উৎপাদিত হয়েছে উপজেলায়। এ বছর উপজেলায় পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৯৫০ হেক্টর। কিন্তু উৎপাদিত হয়েছে ১৩৩৫ হেক্টও জমিতে। গত বছরের তুলনায় এবার পাটের দাম একটু বেশি। বৃষ্টির অভাবের কারণে প্রথম দিকে পাট জাগ দিতে সমস্যায় পড়লেও পরে সেই সমস্যা কেটে যায়। প্রচুর বৃষ্টিপাতের ফলে জলাবদ্ধ বিভিন্ন খাল-বিলের পানিতে এবং উপজেলার করতোয়া, কাটাখালী ও বাঙ্গালী নদীতে পাটের জাগ দেওয়া হয়।
উপজেলার অন্যতম পাটের প্রধান হাট ঢাকা রংপুর মহাসড়কে অবস্থিত বালুয়া হাট। সোমবার ও শুক্রবার হাট বার হলেও এখন প্রতিদিনই পাটের হাট লাগছে। প্রতিদিন প্রচুর কৃষক পাট নিয়ে হাটে আসছেন। পাটের বেপারিরা মানসম্মত পাট কিনছেন তাদের কাছ থেকে।
বালুয়া হাটে কথা হয় উপজেলার বিরাহিমপুর গ্রামের পাটচাষী খাজা মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, এবার পাটের ফলন ভালো হয়েছে। দামও গতবারের চেয়ে বেশি। কয়েক বছর আগে পাট চাষ করে লোকসান দিতে হতো। কিন্তু এখন তা হয় না। কম খরচে পাটে ভালো লাভ পাওয়া যাচ্ছে।
উপজেলার বাসুদেবপুর ফুলবাড়ীর পাটচাষী জাইদুল ইসলাম বলেন, কয়েক বছর ধরে পাটের ভালো দাম পাওয়া তিনি আবার পাট চাষে ফিরে এসেছেন। বর্তমানে বাজারের ভালো মানের পাট ৩ হাজার ৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে।
হাটে পাট কিনতে আসা সাদেক আলী বেপারি জানালেন, এখানকার অধিকাংশ চাষী উন্নত পদ্ধতিতে নদীতে পাটের আঁশ ছাড়ায় বলে এই পাটের গুনগত মান অনেক ভালো। এই এলাকার কৃষকদের পাটের আঁশ স্বচ্ছ ও পরিষ্কার। তিনি নিয়মিত এই হাটে পাট কিনতে আসেন জানিয়ে বলেন, বর্তমানে পাটের বাজার একটু কমতির দিকে হলেও ভালো মানের পাট এখনও ৩ হাজার টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রেজা ই মাহমুদ বলেন, উপজেলায় এবার লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাট উৎপাদিত হয়েছে। উন্নতমানের পাটের দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি পাচ্ছে কৃষক। উপজেলার কৃষি অফিস থেকে কৃষকদের তিনটি উন্নত জাতের পাট বীজ সরবরাহ করা হয়েছে। আধুনিক পদ্ধতিতে কিভাবে পাট থেকে আঁশ ছাঁড়াতে হয় সেই বিষয়ে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, আগে পাট চাষীরা ভারতীয় পাট বীজ ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন তারা দেশি উন্নত জাতের পাট বীজ ব্যবহার করে ভালো ফল পাচ্ছেন। এতে করে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মূদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে।
The post সোনালী আঁশ গোবিন্দগঞ্জে এখন সোনার মত দামী কৃষি পণ্য appeared first on গোবি খবর.
