জলবায়ুর পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বহু দেশে। প্রতিবেশী দেশ ভারতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বজ্রপাতে বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যা। দেশটির পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর দেশটিতে আড়াই হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটছে বজ্রপাতে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রে মারা যায় ৪৫ জন।
ফয়েজউদ্দিন নামে এক তরুণ এখনও ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তার তিন বন্ধু উঁচু ভবনে উঠে সেলফি তোলার সময় বজ্রপাতে মারা যাওয়ার পর থেকে।
ভারতের রাজস্থান, পশ্চিমের এ মরুভূমিতে বহু মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন, যেখানে বজ্রপাতে মৃত্যু প্রায় ছিলই না। জয়পুরের ফয়েজউদ্দিন বলেন, আমি তিন বার বজ্রপাতের কবলে পড়েছি। তিনি তার বন্ধুদের সঙ্গে একটি ওয়াচ টাওয়ারে উঠেন গত জুলাই মাসে। এসময় ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে বজ্রপাতে আরও ৮ জন মানুষের মৃত্যু হয়।

বজ্রপাতের সময় শব্দটা ছিল ঠিক বোমা বিস্ফোরণের মতো। আমার পোশাকেও আগুন ধরে যায়। আমি কোথাও নড়তে পারছিলাম না। এএফপিকে এক সাক্ষাতকারে এমন ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা বলেন ২১ বছর বয়সী এ যুবক।
শুধু মানুষ নয় গৃহপালিত পশুসহ অন্যান্য প্রাণীরও প্রাণহানি ঘটে বজ্রপাতে। আসামের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত মে মাসে বজ্রাঘাতে ১৮টি হাতির মৃত্যু হয়। এ বছরের শুরুতে ছত্তিশগড়ে বড় ধরনের বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। বজ্রপাতের সময় অতিরিক্ত আলোকরশ্মির কারণে বহু ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আগের বছরের চেয়ে বজ্রপাত এতোটাই বেড়ে যায় যে, ১২ মাসে ১ কোটি ৯০ লাখ ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে মার্চ পর্যন্ত। পৃথিবীতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বেড়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে ভারতের বজ্রপাতে মৃত্যু প্রতিরোধ ক্যাম্পেইনের প্রধান বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যুর ডাটা খুব কম সংগঠন সংগ্রহ করে। আরও বড় ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া দরকার বলেন তিনি।

এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিভিন্ন পরিসংখ্যান বলছে, বজ্রপাত এখন একটি স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে গ্রামাঞ্চলে। শুধু বজ্রপাত নয়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে, তাপমাত্রা অসহনীয় পর্যায়ে বেড়ে গেছে গোটা বিশ্বে।
সম্প্রতি ভারতে এক ধরনের মোবাইল অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে যেখানে সতর্ক সংকেত পাওয়া যাবে বজ্রপাতের। কিন্তু সবার হাতে স্মার্টফোন নেই,বিশেষ করে প্রান্তিক এলাকাগুলোতে। আবার এখনও অনেক মানুষ সচেতন নন বজ্রপাত সম্পর্কে। অনেকে হয়তো জানেনই না যে, খোলা মাঠে যাওয়া বা গাছের নিচে দাঁড়ানো ঠিক নয় বজ্রপাতের সময়।
সূত্র-আল জাজিরা, এএফপি
এসএনআর/জিকেএস
