শুক্রবার, ৮ অক্টোবর, ২০২১

অযত্নে পড়ে আছে আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, দুর্ভোগে রোগীরা

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি পড়ে আছে অযত্ন আর অবহেলায়। জনবলের অভাবে দামি মেশিন থাকতেও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন হাজার হাজার সাধারণ মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত। তাই প্রতিদিন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের অসংখ্য রোগী স্বাস্থ্যসেবা নিতে এই হাসপাতালে আসে। হাসপাতালে নিজস্ব মেশিন থাকলেও শুধুমাত্র দক্ষ জনবলের অভাবে দিনের পর দিন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন রোগীরা। গত দুই বছর ধরে ব্যবহার না হওয়ায় মেশিনটির ওপরে ধুলোর আস্তরণ পড়েছে। এতে মেশিনটি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রামদিয়া এলাকার বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ বলেন, ‘আমি এর আগেও চিকিৎসা নিতে আসলে ডাক্তার আলট্রাসনোগ্রাম করার কথা বলেন। কিন্তু হাসপাতালে এর কোনো ব্যবস্থা না থাকায় বাইরের থেকে আলট্রাসনোগ্রাম করে রিপোর্ট দেখিয়েছি। এতে সময় ও অর্থ বেশি ব্যয় হয়।’

রায়পুর এলাকার মো. শাহজাহান হেলাল বলেন, ‘আমার পরিবারের এক রোগীকে ডাক্তার দেখানোর পর আলট্রাসনোগ্রাম করে রিপোর্ট দেখানোর পরামর্শ দেন। খোঁজ নিয়ে জানতে পারি হাসপাতালে মেশিন আছে কিন্তু কোনো কার্যক্রম নেই। কি আর করা। বাধ্য হয়ে পার্শ্ববর্তী এক প্যাথলজি থেকে পরীক্ষা করেছি।’

Faridpur

এছাড়াও একাধিক রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, অনেক সময় এই পরীক্ষা করার জন্য রোগীদের জেলা সদরেও যেতে হয়। এতে করে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।

মধুখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এলাকাবাসীর চরম ভোগান্তির শিকার হওয়া পাশাপাশি নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান মেশিনটি। তবে যেহেতু মেশিন আছে সেহেতু দ্রুত এটা চালু করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আ. সালাম বলেন, ‘বছরখানেক হলো আমি যোগদান করেছি। এখানে আসার আগেই আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনটি এ অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ডাক্তার বা দক্ষ ডাক্তার না থাকায় মেশিনটি পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।’

তিনি জানান, এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। লিখিত আকারে রিপোর্টও দেওয়া হয়েছে। চলতি সপ্তাহেও এ বিষয়টিসহ বিভিন্ন শূন্য পদ পূরণের জন্য ছকের মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে।

এন কে বি নয়ন/এফআরএম/এমএস



Advertiser